মাম্পস (Mumps):
মাম্পস,
যা প্যারোটাইটিস মহামারী নামেও পরিচিত, এটি
একটি সংক্রামক ভাইরাল সংক্রমণ যা প্রাথমিকভাবে লালা গ্রন্থিগুলিকে প্রভাবিত করে। এটি
মাম্পস ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট, যা প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের রুবুলা ভাইরাস গণের অন্তর্গত।
মাম্পস শ্বাস প্রশ্বাসের ফোঁটার মাধ্যমে প্রেরণ করা হয় এবং এটির একটি সাধারণ ইনকিউবেশন
সময়কাল ১৬-১৮ দিন থাকে।
কারণসমূহ
(Causes):
মাম্পস ভাইরাস মাম্পস হওয়ার জন্য দায়ী। এটি সংক্রামিত ব্যক্তির শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেমন কাশি বা হাঁচি। সংক্রামিত লালা দ্বারা দূষিত পৃষ্ঠ বা বস্তু স্পর্শ করেও ভাইরাস ছড়াতে পারে।
লক্ষণ (Symptoms):
মাম্পসের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে: ১. এক বা একাধিক লালা গ্রন্থির ফোলাভাব এবং কোমলতা, সাধারণত মুখের পাশে অবস্থিত প্যারোটিড গ্রন্থি।২. চিবানো বা গিলে ফেলার সময় ব্যথা।৩. জ্বর। ৪. মাথাব্যথা। ৫. পেশী ব্যাথা। ৬. ক্লান্তি। ৭. ক্ষুধা হ্রাস ইত্যাদি।কিছু ক্ষেত্রে, মাম্পস মেনিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস, প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং অরকাইটিস (পুরুষদের মধ্যে অণ্ডকোষের প্রদাহ) এর মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
রোগ
নির্ণয় (Diagnosis):
মাম্পসের নির্ণয় প্রায়ই ক্লিনিকাল লক্ষণগুলির উপর ভিত্তি করে, বিশেষ করে প্যারোটিড গ্রন্থিগুলির বৈশিষ্ট্যযুক্ত ফোলা। মাম্পস ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, যেমন ভাইরাল কালচার বা পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) করা যেতে পারে।
জটিলতা (Complications):
মাম্পসের জটিলতাগুলি অন্তর্ভুক্ত করতে পারে:১. মেনিনজাইটিস: মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের চারপাশের ঝিল্লির প্রদাহ।২. এনসেফালাইটিস: মস্তিষ্কের প্রদাহ।৩. প্যানক্রিয়াটাইটিস: অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ।৪. অর্কাইটিস: পুরুষদের মধ্যে অণ্ডকোষের প্রদাহ, যা বিরল ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে।৫. বধিরতা: যদিও বিরল, মাম্পস স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হ্রাস করতে পারে।
চিকিৎসা (Treatment):
এলোপ্যাথিক মতে, মাম্পসের জন্য কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা
নেই। চিকিত্সা সাধারণত সহায়ক এবং বিশ্রাম, ব্যথা উপশমকারী এবং তরল অন্তর্ভুক্ত। ফোলা
গ্রন্থিগুলিতে উষ্ণ বা ঠান্ডা প্যাক ব্যবহার উপসর্গগুলি উপশম করতেও সাহায্য করতে পারে।
হাম, মাম্পস এবং রুবেলা (এমএমআর) ভ্যাকসিন দিয়ে টিকা দেওয়া মাম্পস প্রতিরোধের সবচেয়ে
কার্যকর উপায়।
হোমিওপ্যাথিক মতে, মাম্পসের
জন্য হোমিওপ্যাথিতে চমৎকার চিকিৎসা বিদ্যমান এবং লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করলে খুব
দ্রুত আরোগ্য হয়।এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ঔষধ সমুহ ভাল কাজ করে-
মার্কসল, একোনাইট, পালসেটিলা, রাসটক্স,মার্ক-বিন-আয়োড, ফাইটোলাক্কা, ডিজিটালিস, স্পাইজেলিয়া, ফেরাম ফস, কেলিমিউর, নেট্রাম মিউর ইত্যাদি।


0 Comments
Post a Comment